নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ | 26 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা মোট নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও পুনরুদ্ধার সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন বা বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছে সেগুলো হলো— এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্সকে পুনরুদ্ধারের জন্য আরও তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূলধন ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করতে না পারলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে। এরপর প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সম্পদ, দায়-দেনা ও আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করে আমানত ফেরতের কার্যক্রম শুরু হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। একই সময়ে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
উচ্চ খেলাপি ঋণ, তীব্র তারল্য সংকট এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে তাদের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা মূল্যায়নের মাধ্যমে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ধারাবাহিক পর্যালোচনার পর বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবসায়ন বা বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল করপোরেট সুশাসন এবং বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি আর্থিক খাত সংস্কারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
Posted ১১:১৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.